দ্বিধা কাটিয়ে উঠুন।
যখন আমরা আমাদের ভয়ের উপর মনোযোগ দিই, যখন আমরা জানি না আমরা কী চাই বা কী করতে চাই, যখন আমরা কোন পথ বেছে নেব তা স্থির করতে পারি না, তখন আমরা সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ি। সংক্ষেপে, সিদ্ধান্তহীনতা হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব। আত্মবিশ্বাসহীন ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না, দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে না। যে ব্যক্তি ক্রমাগত তার মনে প্রশ্নচিহ্ন বয়ে বেড়ায়, সে কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আর যে সিদ্ধান্তগুলো তারা নেয়, তাতেও তারা সবসময় ভুল করে। তারা নিজেদের বা অন্যদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
‘আমি পরোয়া করি না’ এমন মনোভাব গ্রহণ করলে সিদ্ধান্তগুলো আরও স্পষ্ট, দ্রুত, বাস্তবসম্মত এবং নির্ভুল হয়। একজন ব্যক্তি যত বেশি শান্তিপূর্ণ, স্থির এবং আত্মসচেতন হবেন, তার সিদ্ধান্তগুলোও তত দ্রুত এবং নির্ভুল হবে। তিনি তার বেছে নেওয়া পথে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।
কোনো প্রকল্প শুরু করার সময় বা কোনো পথে পা বাড়ানোর সময়, মানুষ তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করে সময় নষ্ট করে না। তাদের মন শান্ত ও স্বচ্ছ থাকে। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট করে নেন এবং এগিয়ে যান। কিন্তু এর বিপরীত ক্ষেত্রে, অতীতের ব্যর্থতা থেকে উদ্ভূত কুসংস্কার এবং উদ্বেগে ভরা মন নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন। এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো শান্ত হওয়া। শান্ত থাকা, আত্মবিশ্বাসী হওয়া, অর্থাৎ, 'এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না' এমন একটি মানসিক অবস্থায় থাকা।
পরিশেষে, মন শান্ত থাকলেই আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মন বিক্ষিপ্ত থাকলে নেওয়া সিদ্ধান্ত কখনোই সঠিক হতে পারে না। যখন আপনার মন অশান্ত থাকে, তখন আপনার মস্তিষ্ক শান্তিতে থাকে না। তাই, মনকে শান্ত করা প্রয়োজন।
গতি কমালে প্রায়শই গতি বেড়ে যায়।
এমন পরিস্থিতি আসতে পারে যেখানে আপনাকে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে আপনি বড় সুযোগ হারাতে পারেন। আমি যখন দ্রুত সিদ্ধান্তের কথা বলি, তখন আমি তাড়াহুড়ো করে নেওয়া বা অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের কথা বলছি না। দ্রুত হওয়া আর তাড়াহুড়ো করা এক জিনিস নয়। এই বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না। তাড়াহুড়ো করলে আমরা ভুল করতে পারি। কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ভিন্ন বিষয়।
সেই মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে ঘটনাগুলোকে শান্তভাবে বিশ্লেষণ ও সমন্বয় করার মাধ্যমে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এখানের মূল চাবিকাঠি হলো ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া, ঠিক যেমন অল্প আঁচে রান্না করা। সমস্ত তথ্য আপনার মনে জড়ো করুন, কিছুক্ষণ সেগুলোকে ঘুরতে দিন। আপনার মনে সেগুলোকে অবাধে বিচরণ করতে দিন।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি বিদেশ থেকে একটি চাকরির প্রস্তাব পেলেন যার জন্য অবিলম্বে সাড়া দেওয়া প্রয়োজন। এটি আপনার বর্তমান চাকরির চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, যেমন পদোন্নতি এবং উচ্চতর বেতন। যদি আপনি নিজেকে চেনেন, আপনার অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে থাকেন এবং আপনার সিদ্ধান্তগুলো আপনার চারপাশের মানুষদের কীভাবে প্রভাবিত করবে তা বিশ্লেষণ করতে পারেন, তাহলে আপনি একটি উপযুক্ত উত্তর দিতে পারবেন। আপনি বলতে পারেন, "আমি আমার পরিবার থেকে এত দূরে থাকতে পারব না। আমার অগ্রাধিকার আমার পরিবার, তাই আমি বিদেশে যেতে পারব না।" অথবা আপনি বলতে পারেন, "বিদেশে বসবাস করা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল, এবং আমি নিশ্চিত যে আমার পরিবার আমাকে সমর্থন করবে। আমার অগ্রাধিকার হলো একটি ভালো ক্যারিয়ার গড়া। আমি এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে পারি।" কোনো সিদ্ধান্তই ভালো বা খারাপ নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই সিদ্ধান্তটি বেছে নেওয়া যা আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সঠিক।










